
রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, বিদেশীরা আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি এবং শিল্প সম্পত্তি কিনতে পারবেন, পাশাপাশি উন্নয়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে পারবেন।
রিয়েল এস্টেট বাজারে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। একে দেশটির জাতীয় নীতিতে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জারি হওয়া রাজকীয় ডিক্রি নং এম/১৪ এর ভিত্তিতে এ বিধান কার্যকর হবে, যা নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিদেশিদের সম্পত্তি মালিকানার সুযোগ তৈরি করে দেবে।
জেনারেল রিয়েল এস্টেট অথরিটি (আরইজিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনার কোন কোন অংশ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
আইন চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে অঞ্চলগুলো প্রকাশ করা হবে। অনুমোদিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে প্রত্যাশিত মালিকানা সীমা ৭০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর সীমা নির্ভর করবে- নগর পরিকল্পনা ও স্থানীয় বাজারের অবস্থার উপর।
এই সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মক্কা ও মদিনায় ঐতিহাসিকভাবে বিদেশিদের সম্পত্তি মালিকানা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এ পরিবর্তনের পাশাপাশি সউদী আরব ভগ্নাংশ বা টোকেনাইজড সম্পত্তি মালিকানা (ফ্রাকশনাল ওনারশিপ) চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে না গিয়েই সম্পত্তির শেয়ার কিনতে পারবেন।
সিটিস্কেপ গ্লোবালে (১৭–২০ নভেম্বর, রিয়াদে) বক্তৃতাকালে রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রি অথরিটির সিইও মোহাম্মদ আল-সুলিমান বলেন, এই ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের দূর থেকেই সউদী রিয়েল এস্টেট বাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে এবং তারা সেই অঞ্চলের শক্তিশালী অর্থনীতির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ভিশন ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় করা, রিয়েল এস্টেট খাত আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক মূলধন আকর্ষণের জন্য বৃহত্তম প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের আগে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক প্যাকেজ প্রকাশ করা হবে, যেখানে যোগ্যতার শর্ত, সম্পত্তি কেনার পদ্ধতি, সম্মতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা উল্লেখ থাকবে। সূত্র: ব্লুমবার্গ।